গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের নামে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট করে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগের কয়েকজন স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। যদিও আয়োজক হিসেবে খাতাকলমে নাম ছিল ‘মিলগেইট ছাত্র ও যুব সমাজ’।
চাহিদামতো চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। আবার ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী শেষে ঘটা করে শিল্পী এনে আয়োজন করার পর তাদেরকে প্রতিশ্রুত টাকাও দেয়া হয়নি।
শিল্পীরা টাকা না পেয়ে গভীর রাত পর্যন্ত থানার সামনে অপেক্ষা করেন। পরে ভোরের আগে আগে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।
টুর্নামেন্টের নাম রাখা হয় ‘শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্মৃতি মিনি ডে নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।’
গত ২১ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীর মিলগেট অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলস্ স্কুল মাঠে শুরু হয় এই আয়োজন। ৫৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সানি ও সিনিয়র সহসভাপতি পারভেজ ঢালি ছিলেন এর নেপথ্যে।
এক মাস চলার পর ২৫ মার্চ হয় ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যানারে উল্লেখ করা হয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে। বিশেষ অতিথি করা হয় গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) ইলতুৎ মিশকে। তবে তারা কেউ সে আয়োজনে উপস্থিত হননি।
চাঁদাবাজির অভিযোগ
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে ফি নেয়া হয়। প্রতি ম্যাচে দুই দলের কাছ থেকে ফি নেয়া হয় ৪০০ টাকা।
খেলাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ডের বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে স্পনসর দেখানো হয়। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলকে পুরস্কার হিসেবে মোটরসাইকেল এবং রানার্সআপ দলকে ফ্রিজ দেয়া হয়েছে।
এই আয়োজনে এলাকার ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মার্কেটসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ধরন বুঝে চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। তবে সর্বনিম্ন চাঁদা ঠিক করা হয় ৫০০ টাকা।
মিলগেইট এলাকার ব্যবসায়ী আব্বাস উদ্দিন জানান, এক সপ্তাহ আগে ছাত্রলীগ নেতারা একটি দাওয়াত কার্ড দিয়ে যান। এরপর বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম সানি চাঁদার টাকা নিতে আসেন।
‘এ সময় বৃষ্টি নামে আমার এক আত্মীয় দোকানে ছিল। সে তাকে ৫০০ টাকা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গালাগাল করেন। খবর পেয়ে আমি দোকানে আসি। পরে এক হাজার টাকা দেই। কিন্তু টাকার পরিমাণ তাদের মনমতো না হওয়ায় ছাত্রলীগ নেতারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং টুর্নামেন্টের পর আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন’- বলেন আব্বাস উদ্দিন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান সামনে রেখে চাঁদাবাজি করে থাকে, এটি নতুন কিছু নয়। তবে এ বছর ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ঘিরে যেভাবে চাঁদা আদায় করা হয়েছে, এর আগে কখনো এ রকম হয়নি।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দল গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট যুব সংঘের অধিনায়ক সোহেল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গ্রুপ পর্ব থেকেই একের পর এক বিতর্ক জন্ম দিয়ে এসেছে আয়োজক কমিটি। ওয়াকওভার দেয়ার পর আবার ম্যাচ খেলানো, কোয়ার্টার ফাইনালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন খেলার ফিক্সচার গঠন, কমিটির টিম অলিম্পিয়া হেরে যাওয়ার পরও তাদেরকে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ দেয়াসহ একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়েছে আয়োজক কমিটি। এ জন্য স্বেচ্ছায় আমরা টুর্নামেন্ট বর্জন করেছি।’
শিল্পী ভাড়া এনে টাকা না দিয়ে লাপাত্তা
শুক্রবার টঙ্গীর অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলস্ স্কুল মাঠে হয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া করে আনা হয় শিল্পী ও মিউজিশিয়ানদের। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে শিল্পীদের পাওনা না মিটিয়ে আয়োজকরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
ছাত্রলীগ নেতাদেরকে না পেয়ে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি সমাধানের জন্য গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতির বাসভবনে যান। পরে তারা রাত ৪টা পর্যন্ত টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে অপেক্ষা করেন।
ভুক্তভোগী নগর ব্যান্ডের প্রধান রবিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ২৩ হাজার টাকা চুক্তিতে মিউজিশিয়ান ও শিল্পীদের ভাড়া করে আয়োজক কমিটি। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা কাউকে কিছু না বলেই টাকা না দিয়ে চলে যান।
‘বিষয়টি নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানের বাসভবনে বিচার দিতে গিয়েছিলাম। রাত ৪টা পর্যন্ত আমাদের মেয়ে শিল্পীগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। তারা (আয়োজক) আমাদের একটা টাকাও দিল না।’
অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করা মিতুয়া বলেন, ‘আমি মিরপুর থেকে এসেছি। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কথা রাত ১১টায়, কিন্তু হয়েছে ১২টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠান শেষে আমাদেরকে বসতে বলে আয়োজক কমিটি চলে গেছে। একজন নারী শিল্পী হয়ে রাত ৩টায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। তারা আমাদের পারিশ্রমিক দেয়নি, অগ্রিম টাকাও দেয় নাই। এখন বাসায় যাওয়ারও অবস্থা নাই।’
ক্ষুব্ধ দলের নেতারাই
আহসানউল্লাহ মাস্টার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের বাবা। তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ৭ মে তাকে প্রকাশ্যে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। তিনি খুবই জনপ্রিয় নেতা ছিলেন, যাকে এখনও টঙ্গীবাসী শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতার নামে ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে ঘিরে এতসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরাই।
৫৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা অরিজিনাল আওয়ামী লীগের লোক তাদের কাউকে বলে নাই। তাদের নিজেদের মতো করে আমাদের নাম দিয়ে দিছে, কিন্তু আমরা বিতর্ক করি নাই। কারণ, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের নামটা জড়িত এখানে। আমরা তার প্রতি দুর্বল। তবে তারা (আয়োজক) যে কাজটা করছে, এটা জঘন্য হয়েছে। চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে হুমকি দিয়েছে। শিল্পী ভাড়া এনে টাকা দেয়নি। এটা কোনো কথা হলো?’
একই ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি দ্বীন মোহাম্মদ নীরব বলেন, ‘টুর্নামেন্টের বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। কার্ডে বিএনপি নেতাদের নাম ঠাঁই পেলেও ওয়ার্ডের বড় বড় আওয়ামী লীগ নেতার নাম নেই। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আমি বিষয়টি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে জানাব।’
টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশিউর রহমান সরকার বাবু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু স্ট্যাটাস দেখে আমি ৫৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সানিকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু তার ফোন বন্ধ ছিল। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার আমাদের আবেগ ও অনুভূতির জায়গা। উনার নামে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে কেউ অপকর্ম করলে বরদাস্ত করা হবেনা। আমরা অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’
অভিযোগ শুনেই ফোন কাটেন ছাত্রলীগ নেতা
অভিযোগের বিষয়ে জানতে টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটির সদস্য ৫৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সভাপতি টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মনির হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। রাতে তো টাকা পরিশোধ করার কথা।’
তিনি বলেন, ‘শিল্পীদের টাকা দেবে না কেন? ভিটাবাড়ি বিক্রি করে হলেও টাকা দিতে হবে। শিল্পীদের আমার কাছে পাঠান, ওদের বাড়ি বিক্রি করে হলেও আমি টাকা পরিশোধ করিয়ে দেব।’
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আরও পড়ুন:ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে একটি মাইক্রোবাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
ওই সময় ছিনতাইকারীদের বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন মাইক্রোবাসটির দুই যাত্রী।
আহত দুজন হলেন মাইক্রোবাসের যাত্রী তাহেরা বেগম (৬৫) ও আবদুস সালাম (১৮)। তাদের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায়।
প্রত্যক্ষদর্শী মাইক্রোবাসের যাত্রী হানিফ মিয়া বলেন, ‘আমার ছোট ভাই হুমায়ুন কবির সৌদি আরব প্রবাসী। ছুটিতে তিনি আজকে বাংলাদেশে আসছেন। আমরা যাচ্ছিলাম তাকে এয়ারপোর্ট থেকে এগিয়ে আনতে। ভোর সাড়ে তিনটার দিকে আমরা সোনাইমুড়ী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। এ সময় চালকসহ আমরা চারজন মাইক্রোবাসটিতে ছিলাম।
‘শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশের ভিটিকান্দি এলাকায় পৌঁছাই। এ সময় ঢাকাগামী লেনে একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার শিকার হলে মহাসড়কের এই অংশে যানজট ছিল। যানজটে আটকে থাকার সময় হঠাৎ করে তিন-চারজন যুবক বগি দা, রামদা নিয়ে আমাদের গাড়িতে হামলা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের মারধর করে নগদ ২৮ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। ডাকাতের হামলায় আমার মা তাহেরা বেগম, আমার ভাগিনা আবদুস সালাম আহত হয়েছে। আমরা এই ঘটনায় গজারিয়া থানাতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’
ছিনতাইয়ের ঘটনায় আহত আবদুস সালাম বলেন, ‘দিনে-দুপুরে এভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে। তা ছিল আমাদের কল্পনার বাহিরে। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে অস্ত্রের মুখে আমাদের জিম্মি করে আমাদের সাথে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
‘আমি প্রতিবাদ করায় আমাকে রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। আমি সরে গেলে তা আমার পাঞ্জাবিতে লাগে।’
আহত তাহেরা বেগম বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা আমার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে চাইলে আমি তাদের বাধা প্রদান করি। এ সময় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করে। তাদের সাথে না পড়ে একসময় বাধ্য হয়ে আমি ভ্যানিটি ব্যাগ তাদের দিয়ে দিই।’
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘এ রকম একটি খবর আমিও পেয়েছি। ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
আরও পড়ুন:জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিমসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির নামে দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দিনাজপুর শহরের মুন্সিপাড়া মহল্লার ওলিউর রহমান নয়ন বাদী হয়ে সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিমসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে, ২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলাটি দায়ের করেছেন।’
মামলায় অপর উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা সভাপতি আবু ইবনে রজবী, আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা রশিদুল ইসলাম, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী সমিতির সভাপতি মাসুদ আলম, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা ও ঠিকাদার শাহ আলম, ধীমান সরকার, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা মুক্তি বাবু ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী সৈয়দা সেলিনা মমতাজ।
বাদী তার মামলায় অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি শহরের মুন্সিপাড়ার লুৎফুন্নেসা টাওয়ারে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় রিজ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৎকালীন প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে উদ্বোধন করিয়েছিলেন।
এ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
তিনি অভিযোগে জানান, ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে তার প্রতিষ্ঠানে এসে হুমকি দেয় এবং তারা বলেন, ইকবালুর রহিমকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো নেতাকে দিয়ে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করায় তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি দুপুরে বাদী নয়নকে আসামিদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় তাকে অপহরণ করে আসামি আবু ইবনে রজবীর সদর উপজেলার বাঙ্গিবেচা ঘাটের পাশে তার রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে আটক করে রাখা হয়। পরে আসামিদের নির্যাতনে বাধ্য হয়ে বাদী ওই দিন বিকেলে তার স্কুলের কর্মচারী সাক্ষী মিজানুর রহমান ও মিজানুর রহমান জুয়েলের মাধ্যমে আসামি রশিদুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান জিয়া ও ধীমান সরকারকে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা হিসেবে পরিশোধ করেন।
আসামিরা চাঁদা পেয়ে অবশিষ্ট ৭০ লাখ টাকা স্বল্প সময়ের মধ্যে দেওয়ার অঙ্গীকারে ওলিউরকে ছেড়ে দেয়।
ওলিউর তার মামলায় অভিযোগ করেন, আসামি ইকবালুর রহিমের প্রভাবে পরবর্তী সময়ে আসামি সৈয়দা সেলিনাল মমতাজ বাদী হয়ে তার কন্যাকে ভুক্তভোগী সাজিয়ে অলিউর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন। একটি নিয়মিত মামলা এবং অপরটি নারী নির্যাতন আইনে। এই মামলা দুটি অনেক অর্থের বিনিময়ে আপস-নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এরপর নয়ন নিরাপত্তার অভাবে দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্য চলে যান। বর্তমানে দেশে মামলা দায়ের ও বিচারের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি আসামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করেন।
আরও পড়ুন:নাটোরের লালপুরের গোধড়া এলাকায় প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই বছরের মেয়ে শিশুসহ বাবা নিহত হয়েছেন।
উপজেলার গোধড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় শিশুটির মা ও গাড়ির চালক গুরুতর আহত হন।
নিহত দুজন হলেন বগুড়া সদরের কইতলা এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার শাকিল ও তার মেয়ে সুমাইরা আক্তার।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, নাটোর-পাবনা মহাসড়কের গোধড়া এলাকায় যশোর থেকে বগুড়াগামী দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত একটি ভ্যানকে রক্ষা করতে গিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে প্রাইভেট কারটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন দুজন।
পুলিশ জানায়, শাহরিয়ার শাকিল যশোরের কর্মস্থল থেকে পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন।
উপজেলার বেলপুকুর রেলগেট এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন নাটোর সদর উপজেলার চাঁদপুর বাজারের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৩) ও একই এলাকার সোলাইমান ইসলামের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৩৫)।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান বলেন, ‘ইফতারের আগ মুহূর্তে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেন বেলপুকুর রেলক্রসিংয়ের কাছাকাছি এলে ব্যারিকেড ফেলা হয়। কিন্তু মোটরসাইকেলটি ব্যারিকেডের নিচ দিয়ে ঢুকে লাইনে উঠে যায়। আর তখনই ট্রেন চলে এলে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হন।’
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রতিবেশী এক মুদি দোকানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তারের পর ৬৫ বছর বয়সী আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানতে পারি। খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।
‘রাত ৯টার দিকে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পরে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী দাবিদার শিশুটির ফুফু জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের বাড়ির পাশের মুদি দোকানে যায় শিশুটি। দোকানের মালিক শিশুটিকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে যান। সে সময় তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। হঠাৎ তিনি (ফুফু) সেখানে উপস্থিত হলে হাতেনাতে বিষয়টি ধরে ফেলেন।
ফুফুর অভিযোগ, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে উল্টো মুদি দোকানি ও তার ছেলেরা তার ওপর চড়াও হন। অভিযুক্তের পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ করে ভুক্তভোগীরা উল্টো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
শিশুটি বলে, ‘শুধু আমি একা না, দাদার দোকানে যারাই যায় আশেপাশে কেউ না থাকলে তিনি বাচ্চাদের তার কোলে নিয়ে বসায়। বিস্কুট দেয়, বেলুন দেয়। তারপর শরীরে হাত দেয়।’
এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, মুদি দোকানির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আগেও পাওয়া গিয়েছিল। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।
বিষয়টি সম্পর্কে অভিযুক্ত দোকানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:৫৫তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বুধবার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি সকাল ৬টা ১১ মিনিটে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ওই সময় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কয়েক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। ওই সময়ে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে প্রধান বিচারপতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা, তিন বাহিনীর প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
পরে সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।
ঢাকা জেলার আদালত পরিদর্শক আকতার হোসেন বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন মো. সজিব, মো. রাকিব ও শাওন ওরফে ভ্যালকা শাওন। এ ছাড়া লাশ গুমের ঘটনায় তাদের তিনজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
এদিকে আলী আকবর ও মো. রিয়াজ নামে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের খালাস দেন আদালত।
রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা তিন আসামি রাকিব, রিয়াজ ও শাওনকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে দণ্ডিত রাকিব এবং শাওনকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডিত সজিব পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আঁটিবাজার এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছিল। ডিউটি চলাকালে সকাল পৌনে ৮টার দিকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পায়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের সামনে পুকুরের পানিতে একজনের লাশ পানিতে ভাসছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পুলিশ মামলা করে তদন্ত শুরু করে। প্রথমে ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার বান্ধবী বৃষ্টি আক্তার সাক্ষী হিসেবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, এটা তার বান্ধবী মারিয়ার লাশ।
স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ শাওনকে গ্রেপ্তার করে। শাওন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। সেখানে জানান, তিনি, মো. রাকিব, মো. সজিব, মো. আলী আকবর মিলে ভিকটিম মারিয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের পানিতে ফেলে রাখেন। পরে রাকিব এবং সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারাও একই কথা বলে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক অলক কুমার দে। মামলার বিচার চলাকালে ১৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
আরও পড়ুন:
মন্তব্য